সন্তানের মুখ দেখা হলো না সীতাকুণ্ডে বিষাক্ত গ্যাসে প্রাণ হারানো পলাশের


 মাত্র আট মাস আগে ভূমিকা রানী দাসের সঙ্গে ধুমধাম করে বিয়ে হয়েছিল পলাশের। অল্প আয়ের সংসারে মা-বাবা, বোন, ছোট ভাই ও স্ত্রীকে নিয়ে সুখেই কাটছিল তাঁর দিন। সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে ঘিরে পুরো পরিবারে ছিল নতুন অতিথি আসার আনন্দ। কিন্তু শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে একটি দুর্ঘটনায় মুহূর্তেই থমকে যায় সব আনন্দ।

সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ নামের একটি জাহাজভাঙা কারখানায় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে নয়জন নিহত হন। তাঁদের মধ্যে পলাশ দাশও রয়েছেন।

দুর্ঘটনাস্থল থেকে মাত্র ২০০ গজ দূরে পলাশের বাড়ি। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির আঙিনায় বিলাপ করছেন তাঁর বড় বোন রত্নরানী দাশ। ঘরের ভেতর কাঁদছেন পলাশের মা, স্বজন ও প্রতিবেশীরা। তাঁদের পাশে নির্বাক হয়ে বসে আছেন পলাশের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ভূমিকা রানী দাস। তাঁর সিঁথির সিঁদুর মুছে দেওয়া হয়েছে। মাথা নিচু করে অঝোরে কাঁদছেন তিনি।

পলাশের বড় বোন রত্নরানী দাশ মাটিতে লুটিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আমার ভাইয়ের সুখের সংসারের কী হলো? এখন কে দেখবে তার পরিবার? মাত্র আট মাস আগে বিয়ে করেছে। তার স্ত্রী সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। মা হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত। প্রতি সপ্তাহে তাঁর জন্য অনেক টাকার ওষুধ কিনতে হয়। এখন এই সংসার কীভাবে চলবে?’

স্বজনেরা জানান, একই ঘটনায় পলাশের প্রতিবেশী সানি দাস নামের আরও এক যুবক নিহত হয়েছেন। তাঁরা সনাতন ধর্মাবলম্বী হলেও এলাকার সবার সঙ্গে তাঁদের সুসম্পর্ক ছিল। পলাশ ও সানির মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সানি দাসের এক স্বজন কারখানা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘ঘটনার পরপরই সানি কারখানার গেটের সামনে চলে এসেছিল। কিন্তু তাদের বের হতে দেওয়া হয়নি। ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষ প্রথমে জানায়, আক্রান্ত ব্যক্তিরা সামান্য শারীরিক সমস্যা অনুভব করছেন। পরে জানতে পারি, বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে সবাই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে অক্সিজেন দেওয়া গেলে হয়তো তাঁদের বাঁচানো যেত। ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণেই এতগুলো তরতাজা প্রাণ ঝরে গেল।’

তবে স্বজনদের এসব অভিযোগের বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

Comments