ব্রিটিশবিরোধী আ'ন্দোলনের সময় মিরসরাইয়ের দুর্গাপুর ও করেরহাট ছিল বি'প্লবীদের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি।
ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় চট্টগ্রাম জেলার মীরসরাই উপজেলার দুর্গাপুর এবং করেরহাট বিপ্লবীদের অত্যন্ত নিরাপদ ও কৌশলগত ঘাঁটি ছিল।
কেন দুর্গাপুর ও করেরহাট বিপ্লবীদের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল?
কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান: করেরহাট এবং দুর্গাপুর এলাকাটি পাহাড়ি অঞ্চল, ঘন জঙ্গল এবং বর্তমান ত্রিপুরা ও ফেনী সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত ছিল। ব্রিটিশ পুলিশ ও গোয়েন্দাদের নজর এড়িয়ে গোপন আস্তানা তৈরি এবং দ্রুত নিরাপদ স্থানে গা-ঢাকা দেওয়ার জন্য এই ভৌগোলিক সুবিধাটি বিপ্লবীদের খুব সাহায্য করত।
গোপন বৈঠক ও ট্রেনিং: মাস্টারদা সূর্য সেন, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারসহ চট্টগ্রামের সশস্ত্র বিপ্লবী দলগুলোর সদস্যরা এসব দুর্গম এলাকায় গোপন বৈঠক, অস্ত্রের প্রশিক্ষণ এবং আত্মগোপনের জন্য নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করতেন।
যাতায়াত ও রসদ সরবরাহ: আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ে এবং উত্তর চট্টগ্রামের পাহাড়ি সীমান্ত পথগুলোর ওপর এই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ থাকায় অস্ত্র ও রসদ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রেও এই অঞ্চলটি ছিল একটি নির্ভরযোগ্য ট্রানজিট পয়েন্ট।
চট্টগ্রাম জেলা ইতিহাস এবং বাংলাপিডিয়ার নথিতেও স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে— ইংরেজ শাসনামলের শেষদিকে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সশস্ত্র তৎপরতায় মীরসরাইয়ের দুর্গাপুর ও করেরহাট অঞ্চল অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা রেখেছিল।

Comments
Post a Comment